মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্রী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের কথিত প্রেমিক আলিফ ও তার মা-বোন ও দুইজন শিক্ষকসহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) নিহত মারিয়ার মা বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— উপজেলার দক্ষিণ কানাইনগর গ্রামের বরকতউল্লাহর ছেলে আলিফ, তার বোন আয়েশা আক্তার (২১), ও তার মা রুমা আক্তার (৩৫), গোপালনগর গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মাসুদ হোসেন (৩৫), একই গ্রামের কোহিনূরের ছেলে সুজন (৩০), সাহরাইল সিদ্ধাবাড়ি এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেন (২৫), এছাড়া সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম (৬০) এবং আইসিটি শিক্ষক ইয়াকুব মোল্লা (৩৫)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মারিয়া মাহি সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো। পরিবারের অভিযোগ, একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র আলিফ দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতো। এ বিষয়ে প্রতিবাদ ও নিষেধ করা হলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরিবারের দাবি, গত ১৫ জুন সকালে মারিয়া প্রতিদিনের মতো স্কুলে গেলেও পরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিভাবককে বিস্তারিত না জানিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে মারিয়াকে স্কুল থেকে বরখাস্ত করে। পরে মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক ইয়াকুব মোল্লা মারিয়ার মাকে জানান, সে স্কুলের নিচতলায় রয়েছে এবং সেখান থেকে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। তবে পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে পাননি। পরবর্তীতে টানা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রোববার (২১ জুন) বিকেল আনুমানিক ৪টা ৫০ মিনিটে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পাওয়া যায়, সিংগাইর উপজেলার জামির্তা ইউনিয়ন চন্দননগর এলাকার একটি বাগানে একটি অর্ধগলিত মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। নিহতের বড় ভাই মাহিম দেওয়ান ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কুল ব্যাগ, জুতা ও পরনের বোরখার সূত্রে মরদেহটি মারিয়া মাহির বলে শনাক্ত করেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে এক অনৈতিক আচরণের অভিযোগে সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে নিহত মারিয়া ও তার কথিত প্রেমিক আলিফের অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা গ্রহণ ও টিসি প্রদান করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নিহত মারিয়া বাড়িতে মোবাইল ফোন রেখে নিখোঁজ হওয়ার পরে গতকাল তার খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানায়, লাশের ওপরের অংশ একটি গাছের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ছিল। পাশে দ্বিখণ্ডিত কোমরের নিচের অংশ মাটিতে পড়েছিল। ঘটনাস্থলেই তার ব্যবহৃত স্কুল ব্যাগ পাওয়া যায়। মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। এদিকে সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৩টার দিকে নিহত মারিয়ার কথিত প্রেমিক আলিফের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ভাঙচুর চালায়। সিংগাইর থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মানিকগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post